Headline :
সুশীলন প্রকল্প অবহিতকরণসভা অনুষ্ঠিত। ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে আধুনিকায়িত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেসের শুভ উদ্বোধন ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী; নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পাশে জেলা পুলিশ, ভোলা মাঝের চরে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্পীকার মহোদয়ের ভোলা জেলা সফর সমাপ্ত অনেক ত্যাগের পর আজকের গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে পেয়েছি: স্পিকার কৃষকবান্ধব বাজেটের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রস্তাবনা সভা অনুষ্ঠিত হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইল, ইউএনও’র নির্দেশে মনপুরা ছাড়ছেন অভিযুক্ত নারী আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেট নিয়ে কৃষকের প্রত্যাশা ও সমস্যা বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ভোলায় বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প।

জলবায়ু সহনশীল ঘড় পেলো ভোলার ২ উপজেলার তিনশত পরিবার

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

একটি মাথা গোজবার ঠাই একটি অসহায় পরিবারের নতুন স্বপ্নের ঠিকানা। দেখায় বেচে থার নতুন সপ্ন। সেটা যদি হয় টেকসই আর জলবায়ু সহনশীল আর চারিদিকে বিভিন্ন পুষ্টি সমৃদ্ব গাছ হয়ে উঠে আদর্শ বাড়ি। অসহায় দের দির্ঘদিনের নোনা জলের চেখের পানি মুছতে হাত বাড়িয়েছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা জিজেইউএস। দরিদ্র অসহায় পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে তৈরী করে দিচ্ছে পাকা ঘড়। এ যেনো প্রতিটি পরিবার যেনো চাঁদ হাতে পেয়েছে।

‘রেজিলিয়েন্ট হোমস্টেড অ্যান্ড লাইভলিহুড সাপোর্ট টু দ্য ভালনারেবল কোস্টাল পিপল অব বাংলাদেশ (আরএইচএল)’ প্রকল্প। গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর বাস্তবায়নে ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রকল্পটি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ বসবাস ও টেকসই জীবিকার পথ তৈরি করছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি থেকে প্রায় ৩ ফুট উঁচু ভিটির ওপর জলবায়ু-সহনশীল ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৯৩টি এমন ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলি গ্রামের উপকারভোগী ফাতেমা বেগমের জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। তিনি বলেন, আগে সামান্য বৃষ্টি হলেই সন্তানদের নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিতে হতো। এখন নিজের ঘরেই নিরাপদে থাকতে পারছেন। একই ইউনিয়নের দরিরাম শংকর গ্রামের রহিমা বেগম জানান, বন্যা বা ভারী বৃষ্টির সময় আর আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয় না। ঘরে সোলার আলো ও রান্নার জন্য জ্বালানি সাস্রয়ী বন্ধু চুলা পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবন অনেক সহজ হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী নগর আলীর কাছে এই ঘর যেন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, নিজের পক্ষে এমন ঘর তৈরি করা কোনো দিন সম্ভব ছিল না। নতুন ঘরে থাকায় এখন পানি ও ঝড়ের ভয় নেই।

শুধু ঘর নির্মাণ নয়, প্রকল্পটি পরিবেশ রক্ষা ও আয়ের বিকল্প উৎস তৈরিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে। উপকারভোগীদের বাড়ির চারপাশে লবণ-সহনশীল ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে সবুজায়ন বাড়ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৬ হাজার ৫০০টি গাছের চারা ও বেড়া দেওয়ার নেট বিতরণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়েছে গাছের চারা। শিক্ষকরা বলছেন, এতে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি গাছ লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে এমন পরিবারগুলো, যাদের আগে সেই সামর্থ্য ছিল না।

জীবিকার ক্ষেত্রেও বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে প্রকল্পটি। ছাগল ও ভেড়া পালনের জন্য উঁচু মাচার ঘর ও আর্থিক সহায়তা, লবণ-সহনশীল সবজি চাষ, আদা চাষ, কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ এবং প্রাণিসম্পদ সুরক্ষায় ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম উপকূলীয় মানুষের আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে মানুষকে সংগঠিত করা হচ্ছে, যাতে তারা নিজেরাই ঝুঁকি চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে নিতে পারে।

ধনিয়া ইউনিয়নের অভিযোজন গ্রুপের সদস্যরা জানান, আগে জলবায়ু অভিযোজন সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এখন নিয়মিত বৈঠক ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জানছেন কীভাবে দুর্যোগের ক্ষতি কমানো যায় এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category