ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে এমন দাবী তাদের। শনিবার সকাল ৮ টায় উপজেলার টবগীর ৭নং ওয়ার্ডে চৌকিদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নৌ-কন্টিজেন্ট ও পুলিশের যৌথ টহল চলমান রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার জামায়েত আমীর ও ভোলা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক মাওলানা মাকসুদুর রহমান দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, শনিবার সকাল ৮ টায় টবগী ইউনিয়নের দাঁড়িপাল¬ার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি প্রচারণা চালায় নেতা-কর্মীগণ। এ সময় তারা ৭নং ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে পৌছলে বিএনপির কর্মী ইউসুফ, আইয়ূব আলী, কহিনুর, সোহাগ, শামীমের কর্মীরা প্রচারণারত দাঁড়িপাল্লার কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় ইউনিয়ন জামায়েত আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম ও জামায়েত নেতা ফয়জুল্লাহ গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তারা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া জামায়াত কর্মী ইমন, রুহুল আমিন, শামীম, রাতুল, তানভীর, রায়হানসহ অনেকে আহত হন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় প্রচারণায় অনেক নারী কর্মীকে বাঁধা দেওয়াসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বিএনপির অভিযোগে তিনি বলেন, ঘটনা রাস্তায় সংঘটিত হয়েছে। হামলা ও লুটপাটের ঘটনা অসত্য ও বানোয়াট। আমরা মনে করি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটান বিএনপি কর্মীরা।
আহত ইউনিয়ন জামায়াত আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার করার জন্য টবগী ইউনিয়নে বের হই। ৭নং ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ির সামনে গেলে একজন মুরুব্বি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে যাওয়া যাবে না এমন কথা বলেন। আমরা প্রচারণার কথা বললে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এমন সময় চারদিক থেকে বিএনপির কর্মীরা আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় তাদের ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বরে দাবী করেন তিনি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড কাজী আজম জানান, টবগী ইউনিয়নের ওই ওয়ার্ডের আইয়ুব আলী ও ইউসুফ এর বসবাস। সকালে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ওই জায়গায় প্রচারণায় যান। এ সময় তাদের সাথে প্রচারণায় থাকা জামায়াত সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। তারা উত্তেজিত হয়ে আইয়ূব আলীদের দরজা, জানালা, আসবাবপত্র ভাংচুর করেন। তাদের হামলায় আইয়ূব আলী, শিমু আক্তার, মো শামীম, কহিনুর, ইউসুফ, তাজল বেগমসহ বিএনপির ১৫/২০ জন আহত হন। আহতের মধ্যে ৫ জন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, এ সময় প্রবাসী শামীমের ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তিনি বলেন, আসলে জামায়াত পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। ওই বাড়ির কহিনুর ও শিমু জানায়, সকাল বেলা বাড়িতে পুরুষ নাই। আমরা মহিলারা আছি। এজন্য তাদেরকে ঢুকতে বারন করায়, তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এমন ঘটনা ঘটান।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) রিপন কুমার সাহা বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। নৌ-কন্টিজেন্ট ও পুলিশের যৌথ টহল চলমান রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনোরঞ্জন বর্মন জানান, এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।