সুলতান আল এনাম ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের রাজনীতিতে অতি পরিচিত মুখ অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি। দীর্ঘ ১৬ বছর গণতন্ত্র পুনরূদ্ধারে কেন্দ্রীয় কর্ম সূচি সহ রাজপথের সকল আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারনে কর্মক্ষেত্রেও কয়েকবার চাকুরী স্থগিত হয়েছে এছাড়াও হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ লিজি। পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে একাধিক মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়। হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর হাতে বেধড়ক মারপিট ও হামলায় একাধিকবার আহত হয়েছেন। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে তার সহকর্মীদের নিয়ে দিনরাত এক করে ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আর তাই, অধ্যক্ষ লিজিকেই সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাইছেন ঝিনাইদহ বিএনপির নেতা কর্মীও সাধারন মানুষ। কারন তিনি দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ।
জানা যায়, ইসলামী বিশ্বিবিদ্যালয়ের রাষ্ট্রনীতি ও লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকুরি জীবনে পদার্পন করেন অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি। ঝিনাইদহের মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কামরুন্নাহার লিজি। কর্মজীবনে প্রবেশ করে তিনি ঝিনাইদহ কেন্দ্রীক জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। রাজপথে নিবেদিত, কর্মীবান্ধব ও সংগ্রামী অবদানের কারণে কামরুন্নাহার লিজি দীর্ঘ সময়েই ঝিনাইদহের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষের মনে রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
২০১৩ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার কামরুন্নাহার লিজিকে মিথ্যা নাশকতার অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এরপর বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আওয়ামী লীগের তৎকালীন স্বৈরা সরকার কামরুন্নাহার লিজির বাড়িতে ভাংচুর ও তার ওপর একাধিকবার হামলা চালায়। ২৮ অক্টবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েও একাধিকবার আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ লিজি।
জানা গেছে, অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি ঝিনাইদহ মহিলা দলের সভাপতি। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি, ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ঝিনাইদহে ছাত্র-জনতার সঙ্গে সম্মুখ সারিতেই ছিলেন তিনি। নাশকতাসহ ১০/১২ টি মামলার আসামিও হয়েছেন অধ্যক্ষ লিজি।
ঝিনাইদহ মহিলা দলের সদস্য শিরিনা খাতুন বলেন, লিজি আপা আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি ঝিনাইদহ জেলা সহ এ অঞ্চলের নারীদের আশার বাতিঘর। রাজনৈতিক সংগ্রামের বাইরেও লিজি আপা মানবিক কাজেও এগিয়ে । তিনি একমাত্র কর্মীবান্ধব নেত্রী যে সাধারন মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকেন। তাই আমরা চাই তিনিই এমপি হিসাবে নির্বাচিত হলে ঝিনাইদহ বাসির মনের দাবি দাওয়া পূরন করতে পারবেন। ঝিনাইদহ-২ আসনে যে এমপি নাই সেই শূন্য স্থান পূরন করতে পারবেন।
রুলিয়া খাতুন নামে আরেকজন মহিলাদলের নেত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে লিজি আপাকে প্রয়োজন। তিনি উচ্চ শিক্ষিত, মার্জিত ও ক্লিন ইমেজের মানুষ। শেখ হাসিনার আমলে লিজি আপা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সংসদে সুযোগ দেয়া দরকার। আমরা চাই, লিজি আপার মতো একজন মেধাবী নারী জাতীয় সংসদে নারী অধিকার আদায়ে কথা বলুক। এছাড়াও সৈরাশাসকের অত্যাচারের শিকার আমাদের মহিলা দলের শ শ অসহায় মহিলাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সংসারের খোজ খবর নিয়ে তাদের চাল,ডাল,তেল সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। যা আমাদের জেলা বিএনপির নেতাসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানেন। তাই ঝিনাইদহ বাসির প্রাণের দাবি অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজি আপাকেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসাবে দেখতে চাই।
জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ঝিনাইদহ থেকে যদি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি নির্বাচিত করা হয় তাহলে আমি মনে করি জেলা মহিলা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ কামরুন্নাহার লিজিকেই দেওয়া উচিত। কারন লিজি ছাত্র জীবন থেকেই আমাদের সাথে বিএনপি করে আসছে। চাকুরি করেও সে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসুচি সহ সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে থাকে। যে কারনে স্বৈরা শাসকের লাঠিয়াল বাহিনি তাকে কয়েকবার শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে, কলেজ থেকে তাকে দুবার বহিস্কার করা হয়েছে। মহিলা দলকে সুসংগঠিত রাখতে সে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যায় করে, মহিলা দলের দুস্থ মহিলাদের বিভিন্ন সময় সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে তাদের সংসার চালিয়েছে। চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে লিজি,তারপরও সে কখনো দল ছাড়েনি। তাই আমি দলের সাধারন সম্পাদক হিসাবে মনে করি অধ্যক্ষ লিজিই একমাত্র মহিলা এমপি হওয়ার দাবিদার।