জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যুবদের সম্পৃক্ত করতে শ্যামনগরে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা
শ্যামনগরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ বিষয়ে চার দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিফোরআরএল প্রকল্পের আওতায় গত ১৪ থেকে ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুই শিফটে এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি সিডিও’র নির্বাহী পরিচালক জনাব গাজী আল ইমরানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শামসুজ্জামান কনক।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএনআরএস-এর ফিল্ড ম্যানেজার জনাব মোঃ সারোয়ার হোসেন ও জনাব স্মরণ কুমার চৌহান, সাইট অফিসার জনাব তৌহিদ হাসান। রিসোর্স পারসন হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. কামরুল হাসান এবং নীলডুমুর এরিয়ার ফরেস্ট রেঞ্জার জনাব মোঃ ফজলুল হক। বিভিন্ন ইউনিয়নের যুব প্রতিনিধিরা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে অংশগ্রহণকারীদের পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে যুবসমাজকে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ যুবদের সচেতন করে এবং নিজ নিজ এলাকায় সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করে।
পরবর্তীতে জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন স্মরণ কুমার চৌহান। ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ ফজলুল হক বন্যপ্রাণীর প্রজাতি, শ্রেণিবিন্যাস এবং সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রিসোর্স পারসন ড. কামরুল হাসান প্রশিক্ষণের শুরুতে একটি প্রি-ট্রেনিং এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পূর্বজ্ঞান মূল্যায়ন করেন। পরে তিনি ব্যাঙ, সাপ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর বৈশিষ্ট্য, শ্রেণিবিন্যাস এবং নিশাচর প্রাণীর পরিবেশগত গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
চার দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী যুবদের নিয়ে ফিল্ড পর্যায়ে একটি ভিজিট পরিচালনা করা হয়। ধানখালী খালের পাশের একটি বাগান এলাকায় পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শনাক্ত করে টালি পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি বাদুড়ের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন গাছপালা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করে নোট আকারে সংরক্ষণ করা হয়।
ফিল্ড ভিজিট শেষে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এলাকার জীববৈচিত্র্যের আনুপাতিক হার নির্ধারণ করা হয়। এতে দেখা যায়, উক্ত এলাকায় জীববৈচিত্র্যের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। পরে পোস্ট-ট্রেনিং পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান মূল্যায়ন করা হয়, যেখানে তারা প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সফলভাবে আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
প্রশিক্ষণের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। অংশগ্রহণকারী তামিম বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হয়েছেন।
পরিশেষে সিডিও’র নির্বাহী পরিচালক যুবদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়ে দুই শিফটের চার দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।